Showing posts with label পশ্চিমবঙ্গ. Show all posts
Showing posts with label পশ্চিমবঙ্গ. Show all posts

November 20, 2007

এবার জগদ্ধাত্রী পূজায় চন্দননগর




চন্দননগর আমাদের পশ্চিম বঙ্গের অভ্যন্তরীণ হুগলী জেলার একটি শহর যা এককালে ফঁরাসিদের কলোনী ছিল (তাই এর অপর নাম ছিল ফঁরাসডাঙ্গা)। ভারত স্বাধীন হবার পর ফঁরাসি অধিকর্তারা জনমত নিয়ে ১৯৫১ এ চন্দননগর তুলে দেন ভারত সরকারের হাতে। ২রা অক্টোবর ১৯৫৫ এ চন্দননগরকে পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্গত করা হয়।

গত রোববার চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পূজা দেখতে গিয়েছিলাম। এখানকার জগদ্ধাত্রী পূজা খুবই বিখ্যাত। লোকে বলে এই পূজা ১৭৫০ নাগাদ থেকে এখানে হয়ে আসছে যদিও সঠিক তারিখ নিয়ে কিছু বিতর্ক আছে। কার্তিক মাসের এই পূজায় দেবী দূর্গার জগন্মাতা রূপের পূজা করা হয়। বিশাল মূর্তি - সিংহে অধিষ্ঠিত দেবী, তার নিচে শায়িত একটি হাতি। অপূর্ব সুন্দর ডাকের সাজ, আর বিখ্যাত ইলেক্ট্রিক লাইটিং সব মিলিয়ে অত্যন্ত জাকজমকের সাথে পালিত হয় এই পূজা।

তারই কিছু ছবি এখানে তুলে ধরলামঃ



















আরো কিছু ছবি দেখতে পাবেন এইখানে

May 31, 2007

আজকের ছবি


বলুন তো, এটি কোন জায়গার ছবি? হ্যা, নদীবক্ষ থেকে দেখা আমাদেরই কলকাতা।

March 15, 2007

ফের উত্তপ্ত নন্দীগ্রাম


আবার অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল নন্দীগ্রাম।

আগে যা ঘটেছে - সেজ এর জন্য জোর করে জমি অধিগ্রহণ করা হবে, এই ভয়ে ভীত গ্রামবাসী প্রতিরোধ গড়ে তোলে ও যাতে প্রশাসন বা পুলিশ গ্রামে না ঢুকতে পারে তার জন্য রাস্তা কেটে দেয়। এরই মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব বাবু অভয় দেন যে জোড় খাটিয়ে জমি নেওয়া হবে না। কিন্তু তাতে ভয় ভাঙ্গে নি কারোই।

গত আড়াই মাস এইভাবে কেটে যাবার পর আজ পুলিশের বড় বাহিনী দুটি বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে নন্দীগ্রাম প্রবেশ করার চেষ্টা করে, এবং প্রচন্ড প্রতিরোধের মুখে পরে। এর পরেই পাওয়া যায় প্রায় ১৪জন মৃত ও বেশ কিছু আহতদের তালিকা।

ঠিক কি ঘটনা ঘটল নন্দীগ্রামে? বিভিন্ন টিভি চ্যানেল বিভিন্ন কথা শোনাচ্ছে। বিভিন্ন পার্টি বিভিন্ন বিজ্ঞপ্তি দিচ্ছে। ইন্টারনেটে বিবিসি, এনডিটিভি, এমএসএন, টাইমস অফ ইন্ডিয়া ইত্যাদি সাইটগুলিতে খবরটা এসে গেলেও, বাংলা কোনো সাইট এখনো খবরটি আপলোড করেনি। রিয়েল টাইম রিপোর্টিং এর কনসেপ্ট এদের কাছে এখনো দূর অস্ত বলে মনে হয়।

সরকার ও পুলিশের তরফ থেকে বলা হচ্ছে যে পুলিশের উদ্দেশ্য ছিল শান্তিপূর্ণ ভাবে গ্রামে ঢুকে, কেটে দেওয়া রাস্তাগুলি মেরামত করা। এই বার্তা তারা লাউডস্পিকার দিয়ে প্রচারও করছিলেন বলে জানিয়েছেন তাদের কর্মকর্তারা। কিন্তু মানুষ তাদের কথা বিশ্বাস করে নি ও পুলিশকে প্রবল জনরোষের মুখে পরতে হয়। পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে প্রায় ৫০০০ ক্ষিপ্ত মানুষ তাদের ইট, লাঠি, পাথর, এবং পরে বোমা ও পাইপগান নিয়ে আক্রমন করে। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে প্রথমে পুলিশ সতর্কবাণী, তারপর কাঁদানে গ্যাস, রাবার পেলেট ও সর্বশেষে আত্মরক্ষার্তে গুলি চালাতে বাধ্য হয়, এবং তাতে নিহত ও আহত হন কিছু আক্রমণকারিরা। পুলিশের মতে এক ভায়োলেন্ট মবকে কন্ট্রোলে আনতে ও নিজেদের বাঁচাতেই পুলিশের আজকের গুলিচালনা। এও শোনা যাচ্ছ যে আজকের ঘটনায় আর্মড নকশালরাও ছিল যারা পুলিশের ওপর গুলি চালায়।

অন্যদিকের খবর এই যে আনআর্মড মানুষের উপর পুলিশ গুলি চালিয়েছে। টিভিতে যে ছবি দেখানো হচ্ছে তাতে দেখা যাচ্ছে যে গ্রামবাসীরা ছুড়ছে ইটপাটকেল। পুলিশকে গুলি বা বোমা মারার কোনো চিত্র আমরা দেখতে পাই নি এখনো।

মারা গেছেন কারা, বেশ কিছু মহিলা ও যুবক। মৃতের মধ্যে কিছু বাচ্‌চাও নাকি আছে। কি ভাবে এটা ঘটল? শোনা যাচ্ছে যে পুলিশ আটকাতে জমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ দল তাদের প্রতিরোধের অগ্রভাগে দাড় করিয়েছিল মহিলা ও কিছু বাচচাদেরও। ওতএব পুলিশের গুলির শিকার হন তারাই প্রথম।

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এবারো নন্দীগ্রাম যেতে দেওয়া হয়নি। একটি বাংলা চ্যানেলের মতে, তাঁর কনভয় আটকে দেয় সিপিএম এর ক্যাডাররা। সিপিএম এর এক নেতা অবশ্য এই চ্যানেলে দেখানো ক্যাডারদের ছবিকে 'পুরানো ছবি দেখানো হচ্ছে' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তৃণ্মূল নেত্রী দাবি করেছেন যে মারা গেছে ১০০জনের ওপর, এবং ক্যাডারদের হাতে ধর্ষিত ও নিহত হয়েছেন বহু মহিলা। তাঁর মতে বহু মানুষের দেহ গ্রাম লাগোয়া নদিতে ভাসিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং হবে।

দুপুরের মধ্যে এই ঘটনার প্রতিবাদের জের ছড়িয়ে পরে রাজ্যে। রাস্তা, ট্রেন অবরোধ, বাস ভাংচুর, ইত্যাদির পাশে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান রাজ্যের আইনজীবিরা। সরকার পরিচালিত নাট্য একাডেমী থেকে পদত্যাগ করেন কিছু বিশীষ্ট নাট্যশিল্পী। এরই মধ্যে তৃণমূল, কংগ্রেস ও এস ইউ সি আই পরশু অর্থাৎশুক্রবার ১২ ঘন্টার বাংলা বন্ধ ঘোষনা করে। জামাত-এ-উলেমার কথা এখনো জানা যায়নি। বিজেপি ওই একই দিন ২৪ ঘন্টার বন্ধ ঘোষনা করেছে। বন্ধের দরুণ পিছিয়ে দেওয়া হল সেদিনের উচচমাধ্যমিক ও অন্যান্য বোর্ড পরীক্ষা। সিপিএমএর মুখপাত্র বিমান বসু বিরোধিরা আগামীকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বন্ধ না ডেকে শুক্রবার অর্থাৎ উইকএন্ডের লাগোয়া ও বোর্ড পরীক্ষার দিনে বন্ধ ডাকায় তার তীব্র সমালোচনা করেন।

ঘটনার রেশ ছোয় বিধানসভা ও লোকসভাকেও। তৃণমূল চাইছেন বুদ্ধবাবুর পদত্যাগ বা ছাটাই। তারা রাস্ট্রপতি শাসনও চাইছেন। গোলমালের দরুণ বিধানসভা মুলতুবি করতে বাধ্য হন স্পিকার। সেটা বোধহয় জানানো হয় না বুদ্ধবাবুকে। ফলে বিকেল চারটে নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী তার বিবৃতি দিতে এসে দেখেন হল ফাঁকা। তারপর তিনি কিছুক্ষণ স্পিকারের ঘরে কাটিয়ে ফিরে যান। এখন তাঁর বিবৃতির জন্য আমাদের অপেক্ষা করা ছাড়া গতি নেই। অন্যদিকে রাজ্যপাল পর্যন্ত নন্দীগ্রাম নিয়ে তার উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করেছেন।

উদ্বিগ্ন বাম সরকার অন্তর্ভুক্ত শরিক দলগুলিও, যেমন সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক ও আর এস পি। তারা জানিয়েছেন যে এই পদক্ষেপের কথা নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করা হয় নি। এই ঘটনা আরো একবার বামফ্রন্টের অভ্যন্তরীন দ্বন্দকে প্রকাশ্যে এনে দিল। এবার দেখার বিষয় এই যে ব্র্যান্ড বুদ্ধের ওপর এই ঘটনা কি রকম প্রভাব ফেলে।

অন্যদিকে এদিন জিন্দাল গোষ্ঠিও মুখ্যমন্ত্রীর সাথে দেখা করে তাদের নতুন ইস্পাত কারখানার জন্য জমি নিয়ে আলোচনা করার জন্য।

কাল রাজ্যের নানান জায়গায় গন্ডগোলের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

February 26, 2007

হয়ে গেল কলকাতা বই মেলা ২০০৭



নানান নাটকিয়তার মধ্যে দিয়ে হয়ে গেল ২০০৭-এর কলকাতা বই মেলা। দীর্ঘ ৩৫ বছরের পর এবার হাইকোর্টের গ্রিন বেঞ্চের রায় মেনে কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ময়দান থেকে শেষ মুহুর্তে যুবভারতি ক্রিরাঙ্গনে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হল মেলাটাকে। তবে কোর্টের রায়টি যে অকস্মাত এসেছে তা কিন্তু নয়। গত দু বছর থেকেই উদ্যোক্তারা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিলেন ময়দান থেকে মেলাটাকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছিল না। এবারে উদ্যোক্তাদের সাথে ছিলেন আমাদের মুখ্যমন্ত্রী নিজে। তাই গিল্ড ভেবেছিল এবারেও তারা পুরো জাকজমকের সাথেই বই মেলা হবে ময়দানে। কিন্তু কোর্ট তাদের আশায় জল ঢেলে দিল এবার।

কিন্তু ততদিনে অন্যান্য বছরের মতন এবারেও বিদেশি অংশগ্রহনকারিরা সব এসে হাজির।অতএব শুরু হল মাঠ খোজার জন্য হন্যে হয়ে দৌড়দৌড়ি। শেষে ৯ই ফেব্রুয়ারি নিরুপায় হয়ে যুবভারতী স্টেডিয়ামের সংলগ্ন মাঠে উদবোধন হল বই মেলা কোনরকমে। মেলা শেষ হল ২৫এ ফেব্রুয়ারি। উদ্‌যাপন কমিটি পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের তথ্য অনুযায়ি, আগের বছরের তুলনায় এবার ৪০% কম বই বিক্রি হয়েছে, মানুষের ভিরও হয়েছে কম। এমনটি যে হবে তা জানাই ছিল তাই কেউ আশ্চর্য হয়েছে বলে মনে হয় না। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে পরের বছর বই মেলা হবে তার আগের জাকজমক মাফিক। দেখা যাক সেই কথা থাকে কিনা।

আমি বই মেলায় গেলাম ২১এ ফেব্রুয়ারি। এবার ভেবেই রেখেছিলাম শুধু বাংলা বই কিনব। সেদিন ভাষা দিবস। ছোটো বেলায় মায়ের মুখে শুনেছি ১৯৫২র ২১এ ফেব্রুয়ারির কথা। সাথে সেই গান "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙান..." এদিনও মেলা প্রাঙ্গনে মাঝেমাঝেই বাজছিল সেই গান।

এবারের বই মেলায় কিছু জিনিষ বেশি করে নজরে পড়ল। মেলার লে-আউটের দরুণ পরিস্কার বোঝা গেল যে বেশিরভাগ মানুষই এখন বই মেলায় শুধু বেড়াতে আসেন, বই কিনতে নয়। অন্যান্য বছর ময়দানে ঘাষে বসার প্রচুর জায়গা থাকে, এবার তার অভাব কিছুটা পূরন করল স্টেডিয়ামের সিড়িঁগুলি। দেখলাম লাইন দিয়ে স্টেডিয়ামের গায়ে যেসব বইয়ের স্টল ছিল, প্রায় ফাঁকা বল্লেই হয়। তার লাগোয়া পিচের রাস্তা। তাতে উইন্ডো শপারদের ঠেলাঠেলি ভীর।


এবছর বই মেলায় গেস্ট অফ অনার ছিল অস্ট্রেলিয়া। তাদের স্টলের বাইরে অল্পবিস্তর লাইন দেখতে পেলাম।তাছাড়াও ছিল অন্যান্য বিদেশি স্টল, যেমন ফ্রান্স, আমেরিকা, ব্রিটেন, সাউথ আফ্রিকা, চিলি, ইত্যাদি। প্রায় ৩০-৪০টি দেশ এই বই মেলায় ভাগ নেয় বলেই আন্তর্জাতিক বই মেলা হিসেবে কলকাতা বই মেলার এত নাম। আমি অবশ্য এখনো মিস্‌ করি রাসিয়ার ভস্তক পাবলিশার্সদের যাদের কল্যানে আমরা এককালে খুব কম দামে রাসিয়ান লেখকদের বই কিনতে পারতাম। ঘুরে ঘুরে সব স্টলগুলি দেখলাম। এবার আবার একটা গেটও তৈরি করা হয়েছিল সিডনির ব্রিজের অনুকরনে। দেখে অবশ্য বোঝার জো নেই, এতই কম জায়গায় বানানো।


এরই মাঝে গেলাম বাংলাদেশের প্যাভিলিয়নে। সেটা তৈরি করা হয়েছিল ঢাকার বাহাদুর সাহ পার্কের গেটের আদলে। সেখানে অবশ্য ভিতরে বেশ ভীর ছিল। দেখলাম সবথেকে বেশি ডিমান্ড হুমায়ুন আহমেদের লেখার। তারই বইয়ের ছড়াছড়ি বাংলাদেশের প্রায় সব কটা স্টলে। আচ্ছা, এখানে ওপার বাংলার লেখা পড়ার এতো পাঠক, কিন্তু তবুও অন্য সময়ে কেন ওপার বাংলার বই আমরা হাতের কাছে পাই না? আমি নিজে অবশ্য এখনো খুব বেশি জানিনা ওপার বাংলার লেখকদের সম্পর্কে। যদিও ইদানিং বাংলাদেশী বন্ধুবান্ধব ও কিছু ওয়েবসআইটের দৌলতে আস্তে আস্তে জানছি। তাই
আমিও কিনে ফেললাম গোটা কতক হুমায়ুন আহমেদের সংকলন। একটা বাংলা টিভি চ্যানেল দেখলাম দুই বাংলাদেশী মহিলাকে দিয়ে ২১এ ফেব্রুয়ারির গান গাওয়াচ্ছে।


এছাড়া ছিল লিটল মাগাজিনের এক আলাদা কর্নার। আমি যখন যাই তখন প্রায় ফাঁকা। আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন একজন একাকি সৈনিক। কিন্তু এবার তারা সবাই যেন বেশ নিরুত্তাপ, অন্যান্য বছরের মতন এগিয়ে এসে পথচারিদের ধরার চেষ্টা করছিলেন না কেউই। এই বই মেলার কিছুটা গা- ছাড়া ভাব বুঝি এদেরও ছুয়ে গেছিল। কাছেই ছিল চিত্রশিল্পী গ্রাম, সেখানে আর্টিস্টরা তাদের আঁকার পসরা নিয়ে বসেছিলান। সামনে স্টেজে বাউল গান হচ্ছিল। মেলার আর এক কোনে দেখলাম এক ভদ্রলোক কাগজের কুর্তা ও টুপি পরে দাঁড়িয়ে আছেন এক গাছতলায়, ও সেই কাগজে রয়েছে তাঁর লেখা। দেখে বেশ ভাল লাগল।




আবার ২০০৮ এর প্রতিক্ষায়...আর প্রতিক্ষা করতে করতে আসুন দেশ পত্রিকার মতন আমরাও নাড়াচাড়া করি এই ভাবনাটা নিয়ে...

January 7, 2007

ফিরে এলো বন্ধের রাজনীতি

নতুন বছরের কয়েকটা দিন যেতে না যেতেই পশ্চিমবঙ্গ ফের তার পুরানো রোগে আক্রান্ত হয়ে পরলো। ফিরে এলো যখন তখন বন্ধ ডাকার ঐতিহ্য। সিঙ্গুরের পর এবার নন্দীগ্রাম ইস্যুতে আগামিকাল ১২ ঘন্টার বন্ধ ডেকেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তা দেখে রাজ্য কংগ্রেস ভাবলো এই রে, এবারেও সমস্ত মাইলেজ তৃণমূল একাই পেয়ে যাবে। অতএব তারা ঘোষনা করল ১২ নয়, বন্ধ হবে ২৪ ঘন্টা।

রাজ্য সরকার এই বন্ধের মোকাবিলা করতে সাধারন মানুষকে আহবান জানিয়েছেন। কিন্তু আবার এই সরকারই গত মাসে তাদের ট্রেড ইউনিয়নের বন্ধ সমর্থন করতে বাধ্য হইয়েছিল। যে পরিবহন মন্ত্রী কালকের বন্ধ না মেনে পরিবহন ব্যবস্থা সচল রাখার আবেদন জানিয়েছেন, তিনিই আবার ২৫এ জানুয়ারির আসন্য পরিবহন ধর্মঘট সমর্থন করছেন এই বলে যে তার পেছনে রয়েছে কিছু ন্যাজ্য দাবি ও নালিশ।

আর সাধারন মানুষ? তারা কি ভাবছে? আরো একটা দিন ছুটি? নাকি আরো একটা দিন সব কাজ মাটি? আর রাজ্যর ক্ষয়ক্ষতি? তার কথা কি আমরা কেউ ভাবছি?

December 11, 2006

এপার বাংলা, ওপার বাংলা

পশ্চিম বঙ্গে সিঙ্গুরই এখন প্রধান খবর। এবার রাজ্য কংগ্রেস তাদের সিঙ্গুর কর্মসূচি ঘোষণা করল। অন্যদিকে মমতা হুমকি দিলেন আরো জোরালো আন্দোলনের। এখন তিনি গান্ধিজির পথে অনশন করছেন, এরপর তিনি সুভাষের মতন 'দিল্লি চলো' আহবান দিতে চলেছেন। মেধা পাটেকর, অরুন্ধুতি রায়, মহাশ্বেতা দেবী সবাই কোমর বেধেঁ আন্দোলনে নেমে পড়েছেন। আর এসএফআই এর সমাবেশে বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু জানিয়ে দিলেন যে তারাও পাল্টা প্রচারে নামবেন। মমতার আন্দোলনকে 'বাচ্চাদের মতন জেদ' বলে আখ্যা দিয়ে তিনি তৃণমূল নেত্রিকে আরো চটিয়ে দিলেন। মেধা পাটেকরকেও এক হাত নিলেন তিনি।

এদিকে দিল্লীতে মুখ্যমন্ত্রীদের মিটিংএ সবাই একমত হয়েছেন যে শিল্পায়নের জন্য কৃষি জমিতে হাত দিতেই হবে, তাছাড়া উপায় নেই। রাজ্য জুড়ে জমিতে চাষ না করে কি করে কম জমিতে উন্নত মানের চাষ প্রণালী প্রয়োগ করে ফলন বাড়ানো যায় তার দিকে নজর দিতে হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান। এর থেকে পরিষ্কার যে মুখ্যমন্ত্রীও তার সরকারের সিঙ্গুর কর্মসূচি থেকে পিছু হটতে তৈরি নন। সব পক্ষেরই এক রাঁ - বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সুচঁগ্র মেদিনী। পশ্চিমবঙ্গের গরম হাওয়ার আঁচ দিল্লিতেও পাওয়া যাচ্ছে, আর মমতা নিজে গিয়ে সেই আঁচ আরো গনগনে করে তুলবেন আশা করা যাচ্ছে।

এদিকে বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশেও বেশ মেঘ দেখা যাচ্ছে। অবাক হয়ে দেখলাম যে একদিকে ডঃ ইউনুস হাসিমুখে শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার নিলেন আর অন্য দিকে রাস্তায় সেনা মোতায়েন করার আজ্ঞা দিলেন সে দেশের রাষ্ট্রপতি। নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ এখন সরগরম, দুই প্রধান দল, নির্বাচন উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রপতির নানা কান্ডকারখানা নিয়ে।

সব মিলিয়ে দুই বাংলা এখন গরম হয়ে উঠেছে। রাজনীতির গরম, বড় গরম। তাই এই শীতে মনে হয় রঙিন সোয়েটর, মোজা, গ্লাভস, মাংকি ক্যাপ পরা বাঙালিকে আর দেখা যাবে না।

আবার কনফিউসিয়াস ভাইও রেগে গরম হয়ে আছেন বলে জানিয়েছেন। তার রাগের একটা কারণ হল যে ইটিভি বাংলায় সেনা মোতায়েনকে সেনা অভ্যুত্থান বলে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। আমি বলি কি, রাগবেন না। আমার মনে হয় যিনি নিউজটা লিখেছেন, তিনি নিশ্চয় বাংলায় কাঁচা, দুটোর মধ্যে তফাতটা নিশ্চয় জানেন না, তাই কঠিন একটা শব্দ মাথায় আসতেই সানন্দে বসিয়ে দিয়েছেন। আপনি একটা চিঠি লিখে চ্যানেলে আপনার প্রতিবাদ জানান। কিন্তু প্লিজ, অনশন করবেন না।

December 10, 2006

আমরা কি সত্যিই একটি প্রগতিশীল রাজ্যে বাস করছি?

আমরা বাঙালিরা চিরদিনই নিজেদের প্রগতিশীল বলে গর্ব করে এসেছি। শিল্পায়ন ইত্যাদি নানান ব্যাপারে অন্য রাজ্যের থেকে পিছিয়ে থাকা সত্তেও, মানসিক বিকাশ, সভ্যতা ও সংস্কৃতির দিক থেকে যে আমরা এগিয়ে, এই ভেবে আমরা মাথা উচুঁ করে চলি ও প্রায়শই নিজেদের বাহবা দিয়ে থাকি। কিন্তু এই গর্ব, এই উচুঁ মাথা অনেকটাই খর্ব করে দিল কোলকাতার এক সেমিনারে তুলে ধরা ২০০৫ সালের, ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর কিছু চমকে দেওয়া পরিসংখান।
  • পারিবারিক হিংসার ক্ষেত্রে পশ্চিম বঙ্গের স্থান দ্বিতীয়, অন্ধ্রপ্রদেশের পরেই। ২০০১ থেকে ২০০৫ এর মধ্যে আমাদের রাজ্যে পারিবারিক হিংসার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে ৬৮%।
  • পণের দাবিতে বধূহত্যায় আমরা রয়েছি চতুর্থ স্থানে - উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও মধ্যপ্রদেশের পরেই
  • মেয়ে পাচারের ক্ষেত্রে আমরা আছি বিহারের ঠিক পরেই। বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের মিলিত পরিসংখান দাড়াচ্ছে ৯০%! নদিয়া জেলা থেকে সব চেয়ে বেশি মেয়ে পাচার হয়ে যাচ্ছে।
  • ২০০৫ সালে আমাদের রাজ্যে রিপোর্টেড রেপ কেস দাড়াচ্ছে ১৬৮৬টি যা ২০০৪ সালের থেকে প্রায় ১৩% বেশি।
  • সমস্ত রকম নারী নির্যাতনের কেস যদি একসাথে দেখা হয় তাহলে সেখানে পশ্চিমবঙ্গের স্থান ৫ নম্বরে।
জুলাই মাসে যখন প্রথম রিপোর্টটি প্রকাশ হয়, তখন আমাদের মুখ্যমন্ত্রী এই বেড়ে চলা মহিলা নির্যাতনের স্ট্যাটিসটিক্সকে লজ্জাজনক আখ্যা দিয়েছিলেন। সেই মাসেই একটি বিশাল সার্ভের উদ্যোগও নিয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু তা আদৌ শেষ হয়েছে কিনা আমার জানা নেই।

তবে মহিলা কমিশনের সদস্য মালিনি ভট্টাচার্য জানিয়েছেন যে এটা ঠিক পরিস্কার নয় যে ক্রাইম বেশি ঘটছে না এখন বেশি সংখায় মহিলারা সাহস করে এগিয়ে এসে নির্যাতন, রেপ, এই ধরনের কেসগুলি রিপোর্ট করছেন। আমার মতে কারন যাই হোক না কেন, এটা পরিস্কার যে নারী নির্যাতনের ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গ বেশ এগিয়ে আছে।

(এটা যদি সত্যি হয় যে রাজ্যে বেশি সংখক মহিলারা নির্যাতনের মোকাবেলা করতে এগিয়ে আসছেন, তবে আশা রইল যে অবশেষে "সাইলেন্স এরাউন্ড ভায়োলেন্স" এর দিন শেষ হতে চলেছে। অফিসে আমার যে কলিগ্‌টি প্রায়ই তার বাড়িতে "আল্‌মারীতে গুতো" খেয়ে ব্ল্যাক আই নিয়ে অফিসে আসতো সেও হয়তো একদিন প্রতিবাদ করতে শিখবে। নতুন পাশ হওয়া পারিবারিক হিংসা আইন রিয়েল লাইফে কতটা কার্যকরি হয়ে পাশে এসে দাড়ায়, সেটা দেখার অপেক্ষায় রইলাম)।

নারী পুরুষ শিশু নির্বিশেষে আমরা যেদিন সবাইকে নিরাপত্তার আশ্বাস দিতে সক্ষম হব, সবাই মিলে যেদিন সুবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের মতন বাঁচবো, সেদিনই আমরা আক্ষরিক অর্থে প্রগতিশীল বলে গণ্য হব, তার আগে নয়। আপনি কি বলেন?

December 8, 2006

সালেম থেকে সিঙ্গুর - কিছু চাওয়া, কিছু ভুলে যাওয়া।

সিঙ্গুর নিয়ে আজকাল বাজার গরম। সেই নিয়ে পড়তে পড়তে হঠাৎ মনে পড়ল যে এক বছর আগে এমনই এক আন্দোলন হবার কথা ছিল যখন সালেম গোষ্ঠি এই রাজ্যে জমি পেতে চলেছিল। তারপর হঠাৎই সব কেমন চুপচাপ মেরে গেল। কেন বলুন তো?

সিঙ্গুর নিয়েও কিছু পয়েন্ট আমার মনে হয় আরো পরিস্কার হওয়া দরকার। যেমন :-
  • বুদ্ধবাবু বলছেন যে মালিক জমি নিজের ইচ্ছায় বিক্রি করে দিচ্ছেন। ওদিকে মমতা বলছেন চাষিরা জমি দিতে রাজি নন। বাইরের লোক এই শুনে অবাক হয়ে ভাবতে পারেন যে তাহলে সত্যটা কি? কিন্তু লক্ষ করলেই দেখা যাবে যে দুজন কিন্তু আলাদা আলাদা মানুষের কথা বলছেন। অনেক ক্ষেত্রেই জমির মালিকরা চাষ করেন না। তাদের জমিতে চাষ করেন অন্য চাষিরা এবং মালিকরা তাদের থেকে কিছু অংশ পেয়ে থাকেন। অর্থাৎ চাষি এবং মালিক দুজন আলাদা ব্যক্তি, এক নন। এইবার সরকার জমি কিনছেন মালিকদের কাছ থেকে। আর মালিকরাও হয়তো এতদিন পরে তাদের বর্গাদার অধ্যুষিত জমি বিক্রি করে দিয়ে হাত পা ঝাঁড়া হতে চাইছেন। অন্যদিকে এতকাল এই চাষিরা সিপিএম থেকে শুনে এসেছে যে চাষ যার, জমি তার। এবং এই জন্য হয়তো পার্টিকে তারা এতদিন ভোটও দিয়ে এসেছে। এবার তাদের কি হবে? সিটুর ব্রিগেড সমাবেশে বুদ্ধবাবু অবশ্য জানিয়েছেন যে এখন এই বর্গাদারদেরো কিছু টাকা ইত্যাদি দেওয়া হবে। কিন্তু অনেকেই নিশ্চয় আনলিস্টেড, তাদের কি হবে? তারা তো ঠিক বুঝে উঠতে পারল না কোন অপরাধে তাদের রোজগারের পথটা বন্ধ হতে চলেছে? আর কেনোই বা সেই একই সরকার যে এতোদিন তাদের ভুমী আন্দোলনের কথা বলে এসেছে আজ অন্য সুরে গান গাইছে? তারা যে আঁদার ব্যাপারি, ইকনমি, গ্লোবালাইজেসন ইত্যাদি তাদের কাছে জাহাজের খবর বরাবর!
  • একটা লোকাল ইস্যু হঠাত গ্লোবাল হয়ে গেল। এল কংগ্রেস, এল বিজেপি, এলেন মেধা পাটেকর এবং আরো অনেকেই। বিজেপির রাজনাথ সিংহ তো সিঙ্গুরের পথে রওনাও দিলেন বিশাল কনভয় নিয়ে, এটা জানার পরেও যে সেখানে তার বিশাল দল নিয়ে যেতে পারবেন না। কিন্তু যখন দেখলেন পুলিশ তাদের চার পাচজনকে যাবার অনুমতি দিয়ে দিল, তখন তিনি ঝামেলার মধ্যে না গিয়ে গায়ের জোরে 'গ্রেফতার' বরণ করলেন এবং তাড়াতাড়ি কলকাতায় ফিরে এসে মমতার পাশে আশ্রয় নিলেন। পুরো নাটকটাই মিডিয়ার ক্যামেরা বন্দি হয়ে থাকল। এমনটি কেন হল? বিজেপি কি সত্যই সিঙ্গুর দরদি, না তাদের উদ্দেশ্য সেন্ট্রাল গভর্নমেন্টকে একটু বিব্রত করা?
  • এই পুরো ব্যপারটায় কংগ্রেসেরি বা এখন স্ট্যান্ড কি? এক দিকে তারা তৃণমূলের ডাকা বন্ধ্‌ সাপোর্ট করল, আবার অন্য দিকে পিএম বুদ্ধবাবুর পক্ষে কথা বলছেন। তবে সিঙ্গুর নিয়ে তাদের নীতিই বা কি?
  • আমরা বলছি টাটা কেন তাদের পূর্বশুরিদের মতন দূরে কিছু অনুর্বর জমি নিয়ে তা ডেভেলপ করে তারপর শিল্প করছে না? হাইওয়ের ধারে এই জমিই কেন চাই তাদের? কিন্তু এই গলাকাটা কম্পেটিসনের যুগে মনে হয় না সেটা সম্ভব হবে, তাই না? বড়জোর তারা অন্য কোন রাজ্যে গিয়ে তাদের কারখানা করতে পারে। তাহলে কেমন হয়? মমতা আজ বলেছেন যে এরপর তিনি টাটা বয়কটের ডাক দেবেন। তার সাথে সাথে নিশ্চয় চলবে তাদের কিছু শোরুম ভাংচুর, কিন্তু তাতে লাভ কি হবে? এমনিতেই শিল্পপতিরা আমাদের রাজ্যের নাম শুনলে ঘুমের মধ্যেও আঁতকে ওঠেন, এখন তারা খানিকটা বুদ্ধবাবুর ওপর ভরসা করে উঁকিঝুঁকি মারছেন, তারা কি মানে দাঁড় করাবেন এই ঘটনার? বুদ্ধবাবু সাঁফ জানিয়ে দিয়েছেন তার এই আশঙ্কার কথা কিছুদিন আগে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে, সিটুর সমাবেশে। তবে কি আবার আমরা ভুল সিগ্‌নাল পাঠাব?
  • আর এই সব পলিটিক্স অফ অপর্চুনিস্‌মএর মাঝে সিঙ্গুরের কি হবে?

দ্য হিডেন গডের ব্লগে সিঙ্গুর ইসুতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভুমিকা নামক পোস্টটি ইন্টারেস্টিং । তার মতে, এতো সংবাদ মাধ্যম সিঙ্গুর নিয়ে লিখছে, অথচ কাউকেই নিরপেক্ষ মনে করা যাচ্ছে না। আমার মনে হয় এই ধরনের পরিস্থিতিই মনে করিয়ে দেয় যে গ্রাউন্ড রিয়ালিটি জানার পক্ষে ব্লগিং কি পরিমান কার্যকারি একটি মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। সিঙ্গুর থেকে যদি কিছু মানুষ ব্লগ করতেন তবে সেখানে ঠিক কি হচ্ছে তার কিছু ইন্ডিপেন্ডেন্ট খবরাখবর পাওয়া যেত। এটা অবশ্য ঠিক যে অনেকেই ব্লগে সিঙ্গুর নিয়ে আলোচনা করছেন কিন্তু সেগুলো বেশির ভাগই আ্যনালিসিস, কোনোটাই মনে হয় ডিরেক্ট রিপোর্টিং নয়। পশ্চিমবঙ্গে আরো, আরো অনেক ব্লগার দরকার।