Showing posts with label কলকাতা. Show all posts
Showing posts with label কলকাতা. Show all posts

May 31, 2007

আজকের ছবি


বলুন তো, এটি কোন জায়গার ছবি? হ্যা, নদীবক্ষ থেকে দেখা আমাদেরই কলকাতা।

April 21, 2007

লন্ড্রী থেকে লন্ড্রেট - কাপড় কাচার ইতিকথা


বিদেশে অনেককাল ধরেই লন্ড্রেটের চল আছে। বিশেষ করে ১) যেখানে মানুষ বাড়িতে কাপড়জামা কাচতে অপারগ, বা ২) যেখানে ব্যাকপ্যাকার টুরিস্টদের ভীড়, কারন এরাঁ কমদামী হোটেল বা হস্টেলে থাকেন ও খরচ বাচানোর তাগিদে বাইরে জামাকাপড় কাচতে দেন।

কিন্তু খোদ কলকাতায়? এখানে যারা নিজের হাতে কাপড় কাচেন না, তাদের হয় বাড়িতে কাজের লোক আছে জামাকাপড় কাচার জন্য, অন্যথা ওয়াসিং মেসিন। কাপড় শুকানোর জন্য আছে অফুরন্ত রোঁদ, ও হাতের কাছেই আছে ইস্ত্রীওয়ালা। আর যে কাপড়চোপড় বাড়িতে কাচার অসুবিধা, সেগুলোর জন্য লন্ড্রী।

লন্ড্রীতে আমরা কাপড় দিতে অভ্যস্ত, পিস্‌ হিসেবে অর্থাৎ যতগুলো কাপড়, সেই হিসেবে দাম ধার্য করা হয়। এইভাবেই চলছিল। কিন্তু সাম্প্রতিককালে এই প্রথার সাথে কম্পিটিশনে নেমেছে - আইএফবীর লন্ড্রেট।

কয়েকদিন আগেই কলকাতার গড়িয়ায় চালু হল শহরের চতূর্থ লন্ড্রেট। এবার কাপড় কাচা হবে কিলো দরে। ফোন করলেই ওজন করার মেশিন নিয়ে আপনার বাড়িতে হাজির হবে লন্ড্রেটের লোক। কাপড় ওজন করে নিয়ে যাবে, ও ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার বাড়ি বয়ে দিয়ে যাবে কেচে ইস্ত্রী করা কাপড়। কি ধরণের বা কত কিলো কাপড় দিলেন সেই হিসেবে খরচ পরবে ৩৫-৫০ টাকা প্রতি কিলো।

গড়িয়ার লন্ড্রেট ম্যানেজার মিস সিকদার জানিয়েছেন যে তাঁদের মেইন খদ্দের যদিও কমার্সিয়াল যেমন নার্সিং হোম, হস্টেল, হাস্পাতাল ইত্যাদি, ডোমেস্টিক খদ্দেরও আস্তে আস্তে বাড়ছে। আর বেশিরভাগ বাড়ির গিন্নীরা নাকি উইকএন্ডে কাপড় পাঠান, যাতে সোমবার সকালের মধ্যে সব তারা ফেরত পান। ডোমেস্টিক খদ্দের লন্ড্রেটে রোজকার পরার কাপড় পাঠাচ্ছে? একটু অবাক হোলাম। পরে ভেবে দেখলাম, এর অবশ্য নানান কারন থাকতে পারে।
  1. ঠিকই তো, আজকাল শহরে গজিয়ে উঠছে ছোট ছোট ফ্ল্যাট। সেখানে কাপড় মেলার পর্যাপ্ত জায়গা নেই আর বিশেষত যারা মেশিনে কাপড় কাচেন, তারা ফুল ওয়াশলোড করার জন্য কাপড় জমিয়ে রেখে কাচেন, ফলে আরোই জায়গার টান পরে।
  2. যে সব বাড়িতে মেয়েরাও চাকরী করেন, তাদের জন্য নানান ঘরোয়া কাজ জমে থাকে ছুটির দিনগুলির জন্য। এছাড়াও পরিবারের সাথে 'কোয়ালিটি টাইম' কাটানোর এই সময়টুকুই তারা পান। তাই 'টাইম ও এফর্ট' বাচাঁতে পয়সা খর্চা করে কাপড় কাচাটা তারা আউটসোর্স করতে পেরে বোধহয় খুশিই হয়েছেন।
তাছাড়া, লন্ড্রীর থেকে অনেক কম সময়ে লন্ড্রেট থেকে কাপড় ফেরত আসছে, তার ওপরে আছে হোম পিক-আপ ও ডেলিভারীর ব্যবস্থা। তাই লন্ড্রেটের ভবিস্যত উজ্জল বলে মনে করছেন এর কর্তারা।

March 16, 2007

এখন কলকাতাবাসীর মুখে একটাই কথা - 'আই আ্যাম লাভিং ইট'

অবশেষে বিগ ম্যাক এল কলকাতায়। পার্ক স্ট্রিটের একদা নামি রেস্টুরেন্ট ব্লু ফক্স বন্ধ হয়ে পরে ছিল অনেক দিনই। সেই জায়গায় গত সপ্তাহে খুলল ম্যাকডনাল্ড'স ফ্যামিলি রেস্তরাঁ। আর দেখতে না দেখতেই ভিড়। ম্যাক বার্গার খাবার জন্য রেস্তরাঁর বাইরে পরে গেল লম্বা লাইন।

ব্লু ফক্স, তার কন্টিনেন্টাল মেনু ও লাইভ jazz মিউজিকের ঐতিহ্য নিয়ে চিরকালের জন্য হারিয়ে গেল স্মৃতির পাতায়।

February 26, 2007

হয়ে গেল কলকাতা বই মেলা ২০০৭



নানান নাটকিয়তার মধ্যে দিয়ে হয়ে গেল ২০০৭-এর কলকাতা বই মেলা। দীর্ঘ ৩৫ বছরের পর এবার হাইকোর্টের গ্রিন বেঞ্চের রায় মেনে কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ময়দান থেকে শেষ মুহুর্তে যুবভারতি ক্রিরাঙ্গনে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হল মেলাটাকে। তবে কোর্টের রায়টি যে অকস্মাত এসেছে তা কিন্তু নয়। গত দু বছর থেকেই উদ্যোক্তারা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিলেন ময়দান থেকে মেলাটাকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছিল না। এবারে উদ্যোক্তাদের সাথে ছিলেন আমাদের মুখ্যমন্ত্রী নিজে। তাই গিল্ড ভেবেছিল এবারেও তারা পুরো জাকজমকের সাথেই বই মেলা হবে ময়দানে। কিন্তু কোর্ট তাদের আশায় জল ঢেলে দিল এবার।

কিন্তু ততদিনে অন্যান্য বছরের মতন এবারেও বিদেশি অংশগ্রহনকারিরা সব এসে হাজির।অতএব শুরু হল মাঠ খোজার জন্য হন্যে হয়ে দৌড়দৌড়ি। শেষে ৯ই ফেব্রুয়ারি নিরুপায় হয়ে যুবভারতী স্টেডিয়ামের সংলগ্ন মাঠে উদবোধন হল বই মেলা কোনরকমে। মেলা শেষ হল ২৫এ ফেব্রুয়ারি। উদ্‌যাপন কমিটি পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের তথ্য অনুযায়ি, আগের বছরের তুলনায় এবার ৪০% কম বই বিক্রি হয়েছে, মানুষের ভিরও হয়েছে কম। এমনটি যে হবে তা জানাই ছিল তাই কেউ আশ্চর্য হয়েছে বলে মনে হয় না। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে পরের বছর বই মেলা হবে তার আগের জাকজমক মাফিক। দেখা যাক সেই কথা থাকে কিনা।

আমি বই মেলায় গেলাম ২১এ ফেব্রুয়ারি। এবার ভেবেই রেখেছিলাম শুধু বাংলা বই কিনব। সেদিন ভাষা দিবস। ছোটো বেলায় মায়ের মুখে শুনেছি ১৯৫২র ২১এ ফেব্রুয়ারির কথা। সাথে সেই গান "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙান..." এদিনও মেলা প্রাঙ্গনে মাঝেমাঝেই বাজছিল সেই গান।

এবারের বই মেলায় কিছু জিনিষ বেশি করে নজরে পড়ল। মেলার লে-আউটের দরুণ পরিস্কার বোঝা গেল যে বেশিরভাগ মানুষই এখন বই মেলায় শুধু বেড়াতে আসেন, বই কিনতে নয়। অন্যান্য বছর ময়দানে ঘাষে বসার প্রচুর জায়গা থাকে, এবার তার অভাব কিছুটা পূরন করল স্টেডিয়ামের সিড়িঁগুলি। দেখলাম লাইন দিয়ে স্টেডিয়ামের গায়ে যেসব বইয়ের স্টল ছিল, প্রায় ফাঁকা বল্লেই হয়। তার লাগোয়া পিচের রাস্তা। তাতে উইন্ডো শপারদের ঠেলাঠেলি ভীর।


এবছর বই মেলায় গেস্ট অফ অনার ছিল অস্ট্রেলিয়া। তাদের স্টলের বাইরে অল্পবিস্তর লাইন দেখতে পেলাম।তাছাড়াও ছিল অন্যান্য বিদেশি স্টল, যেমন ফ্রান্স, আমেরিকা, ব্রিটেন, সাউথ আফ্রিকা, চিলি, ইত্যাদি। প্রায় ৩০-৪০টি দেশ এই বই মেলায় ভাগ নেয় বলেই আন্তর্জাতিক বই মেলা হিসেবে কলকাতা বই মেলার এত নাম। আমি অবশ্য এখনো মিস্‌ করি রাসিয়ার ভস্তক পাবলিশার্সদের যাদের কল্যানে আমরা এককালে খুব কম দামে রাসিয়ান লেখকদের বই কিনতে পারতাম। ঘুরে ঘুরে সব স্টলগুলি দেখলাম। এবার আবার একটা গেটও তৈরি করা হয়েছিল সিডনির ব্রিজের অনুকরনে। দেখে অবশ্য বোঝার জো নেই, এতই কম জায়গায় বানানো।


এরই মাঝে গেলাম বাংলাদেশের প্যাভিলিয়নে। সেটা তৈরি করা হয়েছিল ঢাকার বাহাদুর সাহ পার্কের গেটের আদলে। সেখানে অবশ্য ভিতরে বেশ ভীর ছিল। দেখলাম সবথেকে বেশি ডিমান্ড হুমায়ুন আহমেদের লেখার। তারই বইয়ের ছড়াছড়ি বাংলাদেশের প্রায় সব কটা স্টলে। আচ্ছা, এখানে ওপার বাংলার লেখা পড়ার এতো পাঠক, কিন্তু তবুও অন্য সময়ে কেন ওপার বাংলার বই আমরা হাতের কাছে পাই না? আমি নিজে অবশ্য এখনো খুব বেশি জানিনা ওপার বাংলার লেখকদের সম্পর্কে। যদিও ইদানিং বাংলাদেশী বন্ধুবান্ধব ও কিছু ওয়েবসআইটের দৌলতে আস্তে আস্তে জানছি। তাই
আমিও কিনে ফেললাম গোটা কতক হুমায়ুন আহমেদের সংকলন। একটা বাংলা টিভি চ্যানেল দেখলাম দুই বাংলাদেশী মহিলাকে দিয়ে ২১এ ফেব্রুয়ারির গান গাওয়াচ্ছে।


এছাড়া ছিল লিটল মাগাজিনের এক আলাদা কর্নার। আমি যখন যাই তখন প্রায় ফাঁকা। আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন একজন একাকি সৈনিক। কিন্তু এবার তারা সবাই যেন বেশ নিরুত্তাপ, অন্যান্য বছরের মতন এগিয়ে এসে পথচারিদের ধরার চেষ্টা করছিলেন না কেউই। এই বই মেলার কিছুটা গা- ছাড়া ভাব বুঝি এদেরও ছুয়ে গেছিল। কাছেই ছিল চিত্রশিল্পী গ্রাম, সেখানে আর্টিস্টরা তাদের আঁকার পসরা নিয়ে বসেছিলান। সামনে স্টেজে বাউল গান হচ্ছিল। মেলার আর এক কোনে দেখলাম এক ভদ্রলোক কাগজের কুর্তা ও টুপি পরে দাঁড়িয়ে আছেন এক গাছতলায়, ও সেই কাগজে রয়েছে তাঁর লেখা। দেখে বেশ ভাল লাগল।




আবার ২০০৮ এর প্রতিক্ষায়...আর প্রতিক্ষা করতে করতে আসুন দেশ পত্রিকার মতন আমরাও নাড়াচাড়া করি এই ভাবনাটা নিয়ে...