December 30, 2006

দিল্লিতে হয়ে গেল গ্লোবাল ভয়সেস ২০০৬ বাৎসরিক সম্মেলন


গ্লোবাল ভয়সেস সম্পর্কে হয়ত আপনারা সকলেই জানেন। এটি এমন একটি নন্‌ প্রফিট সিটিজেন মিডিয়া প্রজেক্ট, যা এ বছর নাইট-ব্যাটেন পুরস্কার জিতেছে, জার্নালিস্‌ম এ এক নতুন পথের দিশারি হওয়ার জন্য। গ্লোবাল ভয়সেস এর উদ্দেশ্য হল সারা পৃথিবীতে ব্লগ মাধ্যমে যে নানান কথোপকথন চলছে, তা একটা কমন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা, যাতে ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটি সে সম্পর্কে জানতে পারে ও তাতে যোগ দিতে পারে। এর অন্য একটা দিক হল ব্লগ আ্যক্টিভিস্‌ম, অর্থাৎ যে সব দেশে ফ্রি স্পিচের ওপর স্টেট সেন্সরসিপ জারি আছে, সেই সব দেশের মানুষরা যাতে তাদের আওয়াজ গ্লোবাল কমিউনিটির কাছে পৌছে দিতে পারে, তারো জন্যে কাজ করছে গ্লোবাল ভয়সেস।

গ্লোবাল ভয়সেস এ আপনি জানতে পারবেন পৃথিবীর নানান দেশের ব্লগাররা কি নিয়ে লিখছেন, আলোচনা করছেন, ভাবছেন। তবে ইউনাইটেড স্টেটস ও ওয়েস্টার্ন ইউরোপ ছাড়া, কারন এই দেশগুলির খবরা খবর এমনিতেই ওয়েস্টার্ন মিডিয়াতে ছেয়ে থাকে আর এই প্রজেক্টের কাজ হচ্ছে তাদের চিন্তা ভাবনা তুলে ধরা যাদের ট্রাডিশনাল মিডিয়া খুব একটা পাত্তা দেয় না।

গত কয়েক মাস ধরে আমি এই প্রজেক্টের সাথে জড়িত আছি। আমার কাজ হল বাংলা ব্লগদুনিয়ার নানান কথোপকথন গ্লোবাল ভয়সেস এ তুলে ধরা। এই কাজ করতে গিয়ে বাংলা ব্লগদুনিয়ার সাথে আমার সম্পর্ক গভীর হয়েছে, এবং বাংলা ব্লগিং নিয়ে আমি আরো ভাবতে শিখেছি, কিন্তু সে কথা অন্য এক দিনের জন্য তোলা থাক।

সম্প্রতি ১৬ ও ১৭ই ডিসেম্বর দিল্লিতে হয়ে গেল গ্লোবাল ভয়সেস ২০০৬ বাৎসরিক সম্মেলন। নানান দেশ থেকে গ্লোবাল ভয়সেস কমিউনিটির ব্লগাররা এতে যোগ দিতে এসেছিলেন। যাদের লেখার সাথে পরিচয় ছিল, তাদের সাথে মুখোমুখি আলাপ করতে পেরে দারুন লাগল। ১৬ তারিখে সম্মেলন ছিল সর্বসাধারনের জন্য খোলা ও তার পরের দিনটি ছিল ক মিউনিটির মেম্বারদের জন্য। দুদিনই নানান ইন্টারেস্টিং বিষয় নিয়ে আলোচনা হল, তার থেকেই কিছু চিন্তা ভাবনা এখানে তুলে দিলাম।
  • আপাতত আমরা নানান ভাষা থেকে ট্রান্সলেট করে ব্লগের কথোপকথন নিয়ে যাচ্ছি গ্লোবাল ভয়সেসএ যা এখনো লেখা হচ্ছে মূলত ইংরেজিতে। পোর্টনয়ের উৎসাহে অবশ্য চাইনিজ ভাষাতেও গ্লোবাল ভয়সেস অনুবাদ হচ্ছে। ইচ্ছে আছে আরো ভাষায় এই কমিউনিটিকে প্রসারিত করার। রেজওয়ান ও আমি জানালাম আমাদের ইচ্ছে যে তার মধ্যে বাংলাও স্থান পাক।
  • সিটিজেন জার্নালিস্‌মকে আরো প্রসারিত করতে দরকার আরো ব্লগার, সমাজের নানান শ্রেনী থেকে, যারা নিজেদের কথা, নিজেদের কমিউনিটির কথা সরাসরি তুলে ধরতে পারবেন। কিভাবে আমরা আরো মানুষকে বিশেষত যুবসম্প্রদায়কে ব্লগিং করতে আগ্রহী করতে পারি, এই "আউট্‌রিচ" প্রোগ্রাম নিয়ে নানান আলোচনা হল। নানান জায়গায় যে আউটরিচ জাতিয় বিভিন্ন কাজ হচ্ছে, তা সম্পর্কে জানতে পারা গেল। আমাদের কাছে এই সেশনটার একটা আ্যডিসনাল চ্যালেঞ্জ হল যে প্রাদেশিক ভাষায় ব্লগিং (যেমন বাংলায় ব্লগিং) কিভাবে জনপ্রিয় করা যায়, সেই নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা।আরো আলোচনা হল ব্লগিং এর নানান টুলস ও টেক্‌নলজি নিয়েও, যেমন, পডকাস্টিং, ভিডিও ব্লগিং, মোবাইল ব্লগিং, ব্লগিং এ এসএমএস ব্যবহার ইত্যাদি।
  • মানুষকে শুধু লিখতে উদ্বুদ্ধ করলেই হবে না, এও দেখতে হবে যে তার ভাবনাচিন্তা সব বাঁধা পেরিয়ে যেন ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটির কাছে পৌছতে পারে। পৃথিবীর কিছু দেশ এটা বন্ধ করার জন্য নানান সেন্সরশিপ চালু করেছে। তাই যাতে ফ্রি স্পিচ বহাল রাখা যায় অথচ ব্লগারের কোন ক্ষতি না হয়, তার জন্য নানান পদ্ধতি অবলম্বন নিয়েও আলোচনা হল।
কি ভাবে আমরা গ্লোবাল ভয়সেস কে আরো উন্নত, আরো এফেক্টিভ করে তুলতে পারি সেই নিয়ে আলোচনা হল ১৭ তারিখে।

এ ছাড়াও অবাক হয়ে দেখলাম ১০০ ডলারের ল্যাপটপ। দেখতে খেলনার মতন হলেও জিনিষটা যে হবে খুবই কার্যকারি, তা নিঃসন্দেহ। (ফটো ক্রেডিটঃ জেস)


সামিট শেষ হয়ে গেছে, সবাই যে যার ঘরে ফিরে গেছে। এই সম্মেলন থেকে জন্ম নিল কিছু নতুন আইডিয়া, নতুন দিগন্ত ও নতুন বন্ধুত্ব। পুরোটাই লাভ।

গ্লোবাল ভয়সেস দিল্লি সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনের আলোচনা সম্পর্কিত ইংরেজি পোষ্ট পাবেন এখানেঃ , , , ৪., সামিটের নানান ফটো পাবেন এইখানে

1 comment:

saifulhasan said...

আমাদের বেঁচে থাকার জন্য খাদ্যের ভূমিকা অনেক। আমরা অনেকেই নানা রকম খাবার ভালোবাসি। আমরা সবাই কম বেশি মাছ ভালোবাসি। কিন্তু বর্তমানে তাজা বা টাটকা মাছ খোঁজে পাওয়া যাই না। আপনি কি সামুদ্রিক মাছ, গলদা চিংড়ি, চিংড়ি, তাজা জল-মাছ, কাঁকড়া, ইত্যাদি দরণের মাছ খোঁজ করছে? তাহলে ভিজিট করুন freshfishbd.